জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ক্লিন্সমান মনে করেন, বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী মেসি আগামী বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারবেন।

“এই লোকটা (মেসি) ফুটবলকে ভালোবাসে, আর সেই আনন্দ অন্যদের কাছেও পৌঁছে দেয়। যতক্ষণ তাঁর এই আনন্দ আছে, যতক্ষণ তিনি ম্যাচকে প্রভাবিত করতে পারছেন, কেন থামবেন? কেন তিনি আরও চার বছর খেলতে পারবেন না?” সাক্ষাৎকারে ক্লিন্সমান বলেন।
“হয়তো তিনি আবারও একবার বিশ্বকাপ জিততে চান। তিনি এই খেলার জন্যই বেঁচে আছেন। তাঁর জীবনযাত্রা অত্যন্ত নিয়মিত—আরও চার বছর খেলা তাঁর জন্য পুরোপুরি সম্ভব।”
সাবেক জার্মান কোচ মনে করেন, পেশাদার খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্য এখন বদলে যাচ্ছে: “আমাদের যুগে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলা সহজ ছিল না। শুধু ফুটবল নয়, অন্যান্য খেলাতেও একই কথা।… গত কয়েক দশকে মানুষ শিখেছে কীভাবে সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়। তাঁরা জানেন কীভাবে বাঁচতে হয়, কীভাবে ঘুমাতে হয়, কীভাবে খেতে হয়। সবকিছুই এখন একধরনের বিজ্ঞান হয়ে উঠেছে। এটা অসাধারণ। মেসি কেন বলতে পারবেন না: ‘আমি এখনও খেলতে চাই। তোমরা যদি আমাকে দলে রাখো, আমি চালিয়ে যাব’?”
ক্লিন্সমান মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ: “আমি প্রতি সপ্তাহেই আমেরিকায় তাঁকে খেলতে দেখি। তিনি এখনও খুব উঁচু মান ধরে রেখেছেন; অনেক ম্যাচই তিনি একাই সিদ্ধান্ত করেন। বড় টুর্নামেন্টের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, তিনি তা জানেন।”
মেসির প্রথম বড় শিরোপা জেতার আগের কঠিন সময়ও ক্লিন্সমান মনে করিয়ে দেন: “তাঁকে সবসময় কোণঠাসা করা হতো: তুমি মারাদোনার পর্যায়ের নও, তুমি কখনো বিশ্বকাপ দেশে আনতে পারোনি। চার বছর আগে কাতারে সেই অবিশ্বাস্য ম্যাচের পর সবকিছু শেষ পর্যন্ত পূর্ণ হলো। তারপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই আরও স্বস্তিতে আছেন। সব চাপ কাঁধ থেকে নেমে গেছে; তিনি এখন শুধু খেলার আনন্দ নিচ্ছেন।… তিনি অনেকদিন অপেক্ষা করেছেন। ভুলে গেলে চলবে না—ক্যারিয়ারের প্রথম বড় শিরোপা পাওয়ার আগে তিনি কতটা পথ পাড়ি দিয়েছেন।”
সাবেক মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়া কোচ মনে করেন, ফাইনালে স্পেনের সামান্য সুবিধা থাকতে পারে, তবে আর্জেন্টিনার দৃঢ়তাও তাঁকে মুগ্ধ করেছে। মেসির ক্ষেত্রেও একই কথা। এই ৩৯ বছর বয়সী খেলোয়াড় এখনও ম্যাচ বদলে দিতে পারেন। ক্লিন্সমানের কথায়, ২০৩০ বিশ্বকাপেও তিনি হয়তো সেটা করতে পারবেন।