চাংশার সমর্থকদের বহু প্রতীক্ষিত ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের CBA প্রাক-মৌসুম চাংশা পর্বের ম্যাচগুলো ৯ থেকে ১১ অক্টোবর সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটি জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। তখন শেনজেন নিউ সেঞ্চুরি, শানসি ফেনজিউ, বেইজিং এন্টারপ্রাইজেস ও নানজিং থংসি—এই চারটি শক্তিশালী CBA দল চাংশায় এসে অংশ নেবে এবং চাংশার সমর্থকদের দোরগোড়ায় উপহার দেবে চীনা বাস্কেটবলের সর্বোচ্চ মানের এক উৎসব।

চাংশার জন্য এই প্রতিযোগিতা যেমন প্রথমবার CBA প্রাক-মৌসুম আয়োজন, তেমনি ২০০৪ সালের CBA অল-স্টার গেম ও ২০২৫ সালের CBA ক্লাব কাপের পর তৃতীয়বার CBA-র কোনো আসর আয়োজন। প্রতিযোগিতার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, চাংশার সমর্থকদের গ্রুপগুলোতে বাস্কেটবল নিয়ে আলোচনাও তত জমে উঠছে। চাংশার বাস্কেটবল ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, প্রথমবার CBA প্রাক-মৌসুম আয়োজন করা এই শহরের বাস্কেটবল ঐতিহ্য মোটেও কম নয়।

‘হুনান প্রাদেশিক বিবরণী: ক্রীড়া খণ্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, বাস্কেটবল চাংশায় আসে ১৯১৪ সালে; তখন চাংশার মানুষ বাস্কেটবলকে ‘ঝুড়ি-বল’ বলে ডাকত। ১৯১৫ সালে ‘হুনান শিক্ষা পত্রিকা’ হুনানের ইতিহাসে প্রথম বাস্কেটবল খেলার নিয়মাবলি প্রকাশ করে, যা বাস্কেটবলকে নিছক খেলা থেকে স্কুলের মাঠে নিয়ে আসে এবং এই শহরে নিয়মের শিকড় গেড়ে দেয়।

১৯১৮ সালে, সবচেয়ে আগে স্কুল পর্যায়ে বাস্কেটবল চালু করা চাংশা মিংদে মিডল স্কুল বাস্কেটবলকে স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ইভেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে; কয়েক বছর পর হুনান প্রাদেশিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চাংশার নারী বাস্কেটবল উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, বিশেষ করে চৌনান গার্লস মিডল স্কুল ও ফুশিয়াং গার্লস মিডল স্কুলের লড়াইকে তখনকার হুনানের নারী বাস্কেটবলের সর্বোচ্চ মানের দ্বৈরথ হিসেবে গণ্য করা হতো।

নতুন চীন প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৬ সালে চাংশায় হুনান প্রাদেশিক পুরুষ বাস্কেটবল দল গঠিত হয়, এর দুই বছর পর হুনান নারী বাস্কেটবল দলও চাংশায় প্রতিষ্ঠিত হয়। পেশাদারি-পূর্ব রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া ব্যবস্থার যুগে হুনান বাস্কেটবল দল চাংশাকে প্রশিক্ষণ ঘাঁটি করে চীনের জাতীয় দলে ঝাং জিয়ানশে, হু শিলিন-সহ অসাধারণ খেলোয়াড় পাঠিয়েছে এবং বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকে এশীয় বাস্কেটবলে চীনের আধিপত্যে অবদান রেখেছে।
স্কুল-কলেজের বাস্কেটবল সবসময়ই চাংশার বাস্কেটবলের এক উজ্জ্বল পরিচয়। সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটি, হুনান নরমাল ইউনিভার্সিটি, ইয়ালি মিডল স্কুল, হুনান প্রাদেশিক ভূতত্ত্ব মিডল স্কুল, মিংদে মিডল স্কুলসহ চাংশার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক শক্তিশালী দলগুলো বহুবার দেশের উচ্চমানের স্কুল-কলেজ বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় লড়েছে। বিশেষ করে ইয়ালি মিডল স্কুলের নারী বাস্কেটবল দল বহুবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং চীনের নারী বাস্কেটবল দলে ওয়াং শুয়েমেং, চেন ইউজিয়ে, দেং ইউথিং, লিউ বেই, গাও জিয়ানজুন, ওয়াং শুশিনের মতো চমৎকার খেলোয়াড় পাঠিয়েছে, এবং নিজস্ব উপযোগী ‘ক্রীড়া ও শিক্ষার সমন্বয়’ উন্নয়ন মডেল গড়ে তুলেছে। সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটিও বহুবার CUBAL (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাস্কেটবল লিগ)-এর সেরা চারে উঠেছে এবং সেখান থেকে লি ঝাংলিনের মতো তারকারা ক্যাম্পাস থেকে পেশাদার বাস্কেটবলে পৌঁছেছেন। চাংশা ‘ক্যাম্পাস বাস্কেটবল’-এর শিখাকে পেশাদার লিগের আলোকিত মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।
পেশাদার বাস্কেটবলের সঙ্গে চাংশার প্রথম সম্পর্ক ২০০৩ সালে। তখন সুই ফেইফেইয়ের মতো জাতীয় দলের খেলোয়াড় সমৃদ্ধ ‘আগস্ট ফার্স্ট’ নারী বাস্কেটবল দল দুই মৌসুমের জন্য চাংশায় ঘাঁটি গাড়ে এবং ‘আগস্ট ফার্স্ট চাংশা’ নামে WCBA-তে খেলে দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়, যা চাংশার সমর্থকদের প্রথমবার নিজের দোরগোড়ায় পেশাদার লিগের শিরোপার আনন্দ উপভোগ করায়।
২০১৩ সালে জাতীয় পুরুষ বাস্কেটবল লিগ (NBL)-এর চ্যাম্পিয়ন দল দংগুয়ান বাইনিং চাংশায় স্থানান্তরিত হয় এবং ‘চাংশা বাইনিং’ নামে NBL-এ খেলে—এটি ছিল পেশাদার বাস্কেটবল ক্লাব নিয়ে চাংশার প্রথম প্রচেষ্টা। ২০১৬ সালে হুনান ইয়ংশেং বাস্কেটবল ক্লাব (বর্তমান নাম চাংশা ইয়ংশেং) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এখন গোটা প্রদেশের বাস্কেটবলপ্রেমীদের স্বপ্ন বুকে নিয়ে CBA-তে ওঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।
চাংশার সমর্থকদের নিজস্ব CBA হোম দল পেতে এখনো সময় লাগবে, তবে CBA-র সঙ্গে চাংশার সম্পর্ক মোটেও হালকা নয়। ২০০৪ সালে হুনান হ্য লং জিমনেসিয়ামে CBA অল-স্টার গেম অনুষ্ঠিত হয়; ঝু ফাংইউ, ডু ফেং, লি নান, ঝাং জিনসং, ই জিয়ানলিয়ান, থাং ঝেংদং, হু ওয়েইদং, লিউ ওয়েই, গুও শিছিয়াং-সহ দেশের বাস্কেটবলের তারকারা সবাই চাংশায় এসেছিলেন, যা চাংশার সমর্থকদের চীনা বাস্কেটবলের শীর্ষ খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য দেখার সুযোগ করে দেয়; ২০২৫ সালে চাংশা দ্বিতীয় CBA ক্লাব কাপের অন্যতম ভেন্যু হয়, যেখানে দশটি উচ্চমানের ম্যাচ কেবল প্রতিযোগিতার সৌন্দর্যই তুলে ধরেনি, বরং ক্রীড়া ও শহরের মেলবন্ধনের এক প্রাণবন্ত দৃষ্টান্তও হয়ে ওঠে।
আর CBA-র বাইরেও ‘বাস্কেটবলের সৌভাগ্যভূমি’ হিসেবে চাংশার সুনাম বহু আগেই ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৫ সালের পুরুষ এশিয়ান বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপে চীনের পুরুষ দল চাংশায় নয়টি ম্যাচের সবকটি জিতে আবার এশিয়ার শীর্ষে ফেরে; ম্যাচ শেষে হাজার হাজার সমর্থকের সমস্বরে ‘মাতৃভূমির গান’ গাওয়ার দৃশ্য আজও চীনা বাস্কেটবলের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তগুলোর একটি; চীনের নারী দলও বহুবার চাংশায় ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয় ছিনিয়ে এনে এই অনন্য সৌভাগ্যের ধারা বজায় রেখেছে।
আজকের চাংশা বাস্কেটবলকে বহু আগেই দৈনন্দিন জীবনে ‘রোপণ’ করে ফেলেছে: চাংশা কাউন্টি হুনানের ‘বাস্কেটবলের জন্মভূমি’ স্বীকৃতি পেয়েছে; ২০২৬ সালে শুরু হওয়া ‘শিয়াং BA’ লিগ, লিউইয়াংয়ের ‘ছুয়ান BA’ ও কাইফু জেলার ‘লৌ BA’-এর সঙ্গে মিলে কোর্টের পাশের উল্লাস সারা বছর থামতে দিচ্ছে না।
যখন গণ-বাস্কেটবলের উন্মাদনা মেলে পেশাদার বাস্কেটবলের প্রাক-মৌসুম উৎসবের সঙ্গে, তখন অক্টোবরের চাংশা যে আবারও এক টগবগে বাস্কেটবল নগরী হয়ে উঠবে, তা নিশ্চিত।
৯ থেকে ১১ অক্টোবর, সেন্ট্রাল সাউথ ইউনিভার্সিটি জিমনেসিয়াম, CBA প্রাক-মৌসুম চাংশা পর্ব—এবার পালা চাংশাবাসীর, ১১২ বছরের বাস্কেটবল স্মৃতিকে নতুন করে উচ্চস্বরে নতুন মৌসুমকে শোনানোর।